• ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

মিসর থেকে যাত্রী নিয়ে গোপনে নিয়মিত ইসরায়েল যায় ‘অস্তিত্বহীন’যে বিমান!

প্রিয় সিলেট ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ১০, ২০২১
মিসর থেকে যাত্রী নিয়ে গোপনে নিয়মিত ইসরায়েল যায় ‘অস্তিত্বহীন’যে বিমান!

বিমান রয়েছে। রয়েছেন যাত্রী। বিমানে বসে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পৌঁছেও যাচ্ছেন তারা। অথচ টের পাচ্ছেন না কেউ!

মিসরের কায়রো থেকে ইসরায়েলের তেল আভিভের মধ্যে এভাবেই ৩৯ বছর ধরে যোগাযোগ রেখে চলেছে একটি ‘অস্তিত্বহীন’ বিমান।

আমেরিকার হস্তক্ষেপে ১৯৭৯ সালে ইসরায়েল এবং মিসরের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির একটি শর্ত ছিল, দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল শুরু করতে হবে।

১৯৮২ সালে এয়ার সিনাই তৈরি করে মিসর। মিসরের রাজধানী কায়রো এবং ইসরায়েলের তেল আভিভের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

এয়ার সিনাইয়ের এই রুটে আগে মিসরের ইজিপ্টএয়ার সংস্থার নেফারতিতি অ্যাভিয়েশনের বিমানের চলাচল ছিল। পরবর্তীকালে এই রুটেই এয়ার সিনাই নামে ওই বিমান চলাচল শুরু হয়।

কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি এবং পরবর্তীকালে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচলে রাজনৈতিক চাপ পড়তে শুরু করে মিসরের ওপর। ওই চুক্তির পরই বাকি সমস্ত আরব দেশ মিসরকে বয়কট করে।

মিসরের অভ্যন্তরেও এ নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। ভিতরে এবং বাইরে দুই চাপের মধ্যে মিসর সম্পূর্ণ ‘অভূতপূর্ব’ একটি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। এই রুটে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা। অন্যদিকে, মিসরকে শান্তি চুক্তির শর্তের কথাও মাথায় রাখতে হয়েছিল। চুক্তির শর্ত যাতে না ভাঙে, সেজন্য তাই একপ্রকার লুকিয়ে এই রুটে বিমান চালাতে শুরু করে মিসর। কিন্তু কীভাবে?

তখনই এয়ার সিনাই সংস্থা তৈরি করে ফেলে তারা। এর আগে পর্যন্ত এই রুটে ইজিপ্টএয়ার নামে বিমান চলাচল করত। ইজিপ্টএয়ারে পাইলট, বিমান, বিমানসেবিকা-সব নিয়েই ফ্লাইট চালানো শুরু করে এয়ার সিনাই। নাম বদলানোর পাশাপাশি আরও একটি কাজ করেছিল মিসর।

গোপনীয়তা বজায় রাখতে বিমানের গায়ে লোগোর ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। এমনকি এই সংস্থার কোনও ওয়েবসাইটও ছিল না। ফলে কোনও যাত্রী যদি কায়রো থেকে তেল আভিভ যাওয়ার জন্য অনলাইনে টিকিট কাটতে উদ্যোগী হতেন, তাহলে তিনি খুবই সমস্যায় পড়তেন। কারণ তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কায়রো থেকে তেল আভিভ যাওয়ার সরাসরি এই একটিমাত্র বিমান এয়ার সিনাইয়ের কোনও ওয়েবসাইট তিনি খুঁজে পেতেন না।

কিন্তু ঘুরপথে তেল আভিভ যাওয়ার জন্য একাধিক বিমান সংস্থার ওয়েবসাইট ভেসে উঠত তার সামনে। তবে এয়ার সিনাইয়ের টিকিট বুক করতে আগ্রহীদের জন্য কিছু বার্তা ভেসে উঠত ইন্টারনেটে। তাতে ক্লিক করলে ট্রাভেল এজেন্সির ইমেল, যোগাযোগ নম্বর পাওয়া যেত।

সেই নম্বরে যোগাযোগ করে যাত্রীকে নিজের বিবরণ মেইল করে পাঠাতে হতো। পাসপোর্টের স্ক্যান কপি এবং আরও যা যা তথ্য জানতে চাইত, সে সবই ইমেল-এর মাধ্যমে পাঠাতে হতো। সব কিছু বিবেচনা করে তারপর ইমেলেই ফ্লাইটের সময়, তারিখ এবং বিমান ভাড়া জানিয়ে দিত ওই সংস্থা।

এরপরই নির্দিষ্ট ঠিকানায় ভাড়া পরিশোধ করতে হতো যাত্রীকে। এখানেও গোপনীয়তা বজায় রাখতে ক্রেডিট কিংবা ডেবিটের মতো কোনও কার্ড ব্যবহার করা যেত না। শুধুমাত্র নগদেই পরিশোধ করতে হতো যাত্রীকে। এই গোপনীয়তার কারণে যাত্রীদের মধ্যে একটি অনিশ্চয়তাও কাজ করত। তারা ঠিক জায়গায় টাকা দিলেন কি না, তা বিমানের ওঠার আগে পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারতেন না।

এই বিষয়টি মাথায় রেখে ২০২০ সালে প্রথম এই বিমানের জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি হয়। নাম রাখা হয় ফ্লাইএয়ারসিনাই.কম। এই ওয়েবসাইট থেকে কায়রো-তেল আভিভের মধ্যে এয়ার সিনাই ফ্লাইটের যাবতীয় তথ্য (ফ্লাইটের সময়, টিকিট ভাড়া ইত্যাদি) দেওয়া রয়েছে, এবং এখান থেকে খুব সহজেই যাত্রীরা টিকিট বুক করে নিতে পারেন। ক্রেডিট কার্ডও ব্যবহার করতে পারেন।

ফ্লাইএয়ারসিনাই.কম যদিও সরাসরি এয়ার সিনাইয়ের ওয়েবসাইট নয়। একটি থার্ড পার্টি ট্র্যাভেল এজেন্সি যাত্রীদের সুবিধার্থে এই ওয়েবসাইটটি বানিয়েছে। ফলে ঘরে-বাইরের চাপ সামলাতে আজও যাত্রীদের কায়রো থেকে তেল আভিভ উড়িয়ে নিয়ে যায় মিসরের এই ‘অস্তিত্বহীন’ বিমান। সূত্র: আনন্দবাজার

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রতিনিধি :: সিলেটের জৈন্তাপুরে ট্রাকচাপায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজন একই পরিবারের। আজ রোববার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সিলেট-তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুর ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পাঁচজন হলেন জৈন্তাপুরের নিজপাট রুপচেন গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী সাবিয়া বেগম (৪০), সাবিয়ার মেয়ে সাকিয়া বেগম (৪), তিন মাস বয়সী ছেলে তাহমিদ হোসেন, ননদ হাবিবুন নেছা (৩৮) ও একই গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক হোসেন আহমদ (৩৫)। এ ঘটনায় আহত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত সাবিয়ার দেবর জাকারিয়া আহমদ (৪২) ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩০)। পুলিশ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারসূত্র জানায়, যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মহাসড়কে উঠলে সিলেট থেকে তামাবিলগামী একটি ট্রাক সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার কয়েকজন যাত্রী ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন। এ সময় ঘটনাস্থলে চারজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়। আহত জাকারিয়া আহমদ বলেন, আজ সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর বলেন, মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশাটি থানায় নেওয়া হয়েছে।