• ২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

বাকি না দেওয়ায় মাথার খুলি ভেঙে ব্যবসায়ীকে হত্যা

প্রিয় সিলেট ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ১৪, ২০২১
বাকি না দেওয়ায় মাথার খুলি ভেঙে ব্যবসায়ীকে হত্যা
Spread the love

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বাকি না দেওয়ায় পিটিয়ে মাথার খুলি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে সেই ব্যবসায়ী মো. সেলিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সেলিমের বাড়ি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নতুন বাক্তারচর এলাকায়। পাশের মোল্লারহাট বাজারে তার জ্বালানি তেলের দোকান রয়েছে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রানা রায়হান নামে এক কাস্টমারের কাছে সেলিম ডিজেল বিক্রির ১১ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকা না দিয়ে রানা আরও ৬৩ হাজার টাকার তেল বাকিতে নিতে চাইলে দোকানে থাকা সেলিমের ছোটভাই শরীফ ও বোনজামাই নূর মোহাম্মদ বাকিতে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৩ জুন দুপুরে রানা রায়হানের নেতৃত্বে আব্বাস আলী, হাতিম মিয়া, রবিউল্ল্যাহ, জাহের আলী, শাহীন, সজিবসহ ১০-১২ জন লাঠিসোটা নিয়ে শরীফ ও নূর মোহাম্মদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে ছিলেন সেলিম। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে তার মাথার খুলি ভেঙে দেয়।

গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দফা মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় খুলির অনেকটা অংশ মাথা থেকে খুলে আলাদা করে রাখেন ডাক্তাররা। সেই খুলি এনে রাখা হয় সেলিমের বাড়ির ফ্রিজে।

সেলিমের স্ত্রী আকলিমা বেগম জানান, মাথার অপারেশনের পর খুলির কিছু অংশ ডাক্তাররা তাদের দেন ফ্রিজে রাখার জন্য।

ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, অপারেশন সফল হলে ফ্রিজে রাখা খুলির অংশ মাথায় প্রতিস্থাপন করা হবে; কিন্তু সেটি আর হলো না। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে তিনি মারা গেছেন। কথা বলার সময় আকলিমা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

এ সময় তিনি বলেন, বিনা অপরাধে ওরা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। তিন সন্তান (দুই মেয়ে ও এক ছেলে) নিয়ে এখন আমি কীভাবে চলব।

জানা গেছে, ঘটনার পর স্বামীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন আকলিমা। তার দায়ের করা মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করলেও পরে তারা আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। হত্যাচেষ্টা মামলাটির প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন জাজিরা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. কায়সার।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রথম কর্মকর্তা তদন্তে গুরুত্ব দেননি। পরে তারা এ ব্যাপারে মৌখিকভাবে থানার ওসিকে জানালে তিনি তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই নাজমুল আলম।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। যেহেতু আহত ব্যক্তি মারা গেছেন, তাই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে। আগের ধারাগুলোর সঙ্গে ৩০২ ধারা যোগ হবে। এখন হত্যা মামলা হিসেবেই এটি তদন্ত করা হবে।

প্রতিনিধি :: সিলেটের জৈন্তাপুরে ট্রাকচাপায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজন একই পরিবারের। আজ রোববার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সিলেট-তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুর ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পাঁচজন হলেন জৈন্তাপুরের নিজপাট রুপচেন গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী সাবিয়া বেগম (৪০), সাবিয়ার মেয়ে সাকিয়া বেগম (৪), তিন মাস বয়সী ছেলে তাহমিদ হোসেন, ননদ হাবিবুন নেছা (৩৮) ও একই গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক হোসেন আহমদ (৩৫)। এ ঘটনায় আহত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত সাবিয়ার দেবর জাকারিয়া আহমদ (৪২) ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩০)। পুলিশ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারসূত্র জানায়, যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মহাসড়কে উঠলে সিলেট থেকে তামাবিলগামী একটি ট্রাক সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার কয়েকজন যাত্রী ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন। এ সময় ঘটনাস্থলে চারজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়। আহত জাকারিয়া আহমদ বলেন, আজ সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর বলেন, মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশাটি থানায় নেওয়া হয়েছে।