• ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

সিলেটে পুনর্বাসন কেন্দ্রে চার তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগ, আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রিয় সিলেট ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২০, ২০২১
সিলেটে পুনর্বাসন কেন্দ্রে চার তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগ, আত্মহত্যার চেষ্টা

সিলেটে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চার তরুণীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনায় চার তরুণী নিজেদের হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা যায়। পরে তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সিলেটের সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খাদিমনগরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তারা আত্মহত্যার চেষ্টা করলে রক্তাক্ত অবস্থায় কর্তৃপক্ষ তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ চার তরুণীর অভিযোগ, ‘প্রশিক্ষক ও স্টোরের দায়িত্বে থাকা দেলওয়ার হোসেন ও অফিস সহকারী আনোয়ারা বেগম তাদের ওপর নির্যাতন করেন। এমনকি ঘটনার দিন সকাল ১১টার দিকে প্রশিক্ষক দেলওয়ার হোসেন তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। দীর্ঘদিনের নির্যাতন-অপমান সহ্য করতে না পেরে তারা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।’

বর্তমানে ওই চার তরুণী ওসমানী হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসাধীন কলি বেগম অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন থেকে তাদেরকে শারিরীক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়। দেলওয়ার এবং আনোয়ারা মিলে নির্যাতন করেন। মাঝে মাঝে অফিস সহকারী আনোয়ারা তাদেরকে জুতাপেটাও করেন। এদিন সকালে খাবার নিয়ে প্রশিক্ষক দেলওয়ার তাদেরকে খারাপ কথাবার্তা বললে তারা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

চার তরুণী আরও জানান, মোট ৩৮ তরুণী ও ২ শিশু মিলে সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মোট বাসিন্দা ৪০ জন। এদের মধ্যে কিছুদিন আগে তাদের সাথের এক তরুণী বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। ওই তরুণীর শিরনী হবে শুক্রবার। মূলত এ শিরনী নিয়েই বকাঝকা করেন দেলওয়ার।

তবে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক ও স্টোরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা দেলওয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই প্রশিক্ষণার্থীরা সামান্য কিছু হলেই হাত কেটে ফেলেন। এর আগেও একাধিকবার তারা নিজেরাই হাত কেটে ফেলে। আমি মাত্র পাঁচ দিন ধরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে স্টোরের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে আনোয়ারা বেগম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতেন।’ দেলওয়ার আরও বলেন, ‘প্রশিক্ষণার্থীদের বুঝিয়ে বলা হয়েছিল শিরনির জন্য অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ নেই স্টোরে যা বরাদ্দ সেগুলো দিয়েই রান্না করা হবে। কিন্তু তারা সেগুলো শুনতে চায়নি। তাই তারা কোনও কারণ ছাড়াই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।’

অপরদিকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অফিস সহকারী আনোয়ারা বেগম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী ব্যস্থাপক লুৎফর রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য গত ২২ জুলাই সিলেটের সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছোটমণি নিবাসে দুই মাসের এক শিশু হত্যার ঘটনায় এখনও সিলেটের মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এর মাঝেই এই চার তরুণীর আত্নহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটলো।

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রতিনিধি :: সিলেটের জৈন্তাপুরে ট্রাকচাপায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজন একই পরিবারের। আজ রোববার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সিলেট-তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুর ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পাঁচজন হলেন জৈন্তাপুরের নিজপাট রুপচেন গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী সাবিয়া বেগম (৪০), সাবিয়ার মেয়ে সাকিয়া বেগম (৪), তিন মাস বয়সী ছেলে তাহমিদ হোসেন, ননদ হাবিবুন নেছা (৩৮) ও একই গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক হোসেন আহমদ (৩৫)। এ ঘটনায় আহত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত সাবিয়ার দেবর জাকারিয়া আহমদ (৪২) ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩০)। পুলিশ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারসূত্র জানায়, যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মহাসড়কে উঠলে সিলেট থেকে তামাবিলগামী একটি ট্রাক সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার কয়েকজন যাত্রী ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন। এ সময় ঘটনাস্থলে চারজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়। আহত জাকারিয়া আহমদ বলেন, আজ সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর বলেন, মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশাটি থানায় নেওয়া হয়েছে।