• ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

পদ্মা সেতুতে বসল শেষ স্ল্যাব, এখন বাকি পিচ ঢালাই

প্রিয় সিলেট ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৩, ২০২১
পদ্মা সেতুতে বসল শেষ স্ল্যাব, এখন বাকি পিচ ঢালাই
Spread the love

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।  সেতুর সড়কপথের দুই হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের সব বসে গেছে সেতুতে। এতে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুর নতুন এক মাইলফলক পূরণ হলো। এর মাধ্যমে সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করার ক্ষেত্রে বাকি থাকবে শুধু পিচ ঢালাই।

সোমবার সকাল ১০টা ১২ মিনিটের দিকে সেতুর ১২ও ১৩ নং পিয়ারে সর্বশেষ রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী  প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, রোববার পর্যন্ত সেতুর দুই হাজার ৯১৭ রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে বসানো হয়েছিল দুই হাজার ৯১৪টি। রাত থেকে বাকি তিনটি স্ল্যাব বসানো হয়েছে। রাতে দুটি ও বাকি থাকা একটি স্ল্যাব সকাল ১০টা ১২ মিনিটে বসানো হয়।

এদিকে এর আগে চলতি বছরের ২০ জুন শেষ হয়েছিল দ্বিতলা সেতুর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ।

অপরদিকে প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত সেতু প্রকল্পের সার্বিক কাজ এগিয়েছে ৮৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ মূল সেতুর কাজের আর বাকি মাত্র ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু।

এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছিল ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর।

একই সঙ্গে চলতে থাকে রোডওয়ে, রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোসহ অন্যান্য কাজ। ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যেই এই সেতুর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুসারে, আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। এর পরও প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর থাকবে। তবে সেই সময়টা সেতুর কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা মেরামত করা হবে।

পদ্মা সেতু দ্বিতলবিশিষ্ট। এর ওপর দিয়ে চলাচল করবে যানবাহন, নিচ দিয়ে রেল। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। সেতুটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। দক্ষিণের মানুষ এখন সেতুটি চালুর অপেক্ষায়।