• ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

জিয়াউর রহমানকে প্রমাণ করতে হবে সে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা: আইনমন্ত্রী

প্রিয় সিলেট ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০২১
জিয়াউর রহমানকে প্রমাণ করতে হবে সে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা: আইনমন্ত্রী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিউয়ার রহমানকে প্রমাণ করতে হবে তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা- এমন মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) আইন অনুষদের উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার: আইনি পর্যালোচনা’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রবিবার ‌বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ৫০১ নম্বর রুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আইন অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমানের সঞ্চালনায় এবং উপাচার্য ড. এ. কিউ. এম মাহবুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন আইন, বিচার সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

তি‌নি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার অর্থ বাংলাদেশকে হত্যা করা। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিনষ্ট করা। তারা চেয়েছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো পরিচালনা করতে। এর প্রেক্ষিতেই জিয়াউর রহমান ক্ষমতা লাভের পর কুখ্যাত ইনডেমনিটি আইন পাস করে এবং খুনীদের যাতে বিচারের মুখোমুখী হতে না হয় সেটি নিশ্চিত করে’।

জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে প্রমাণ করতে হবে সে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। কারণ হচ্ছে তার কর্মকাণ্ডে ভারতে যাওয়া ছাড়া, জেড ফোর্স নামের একটা ভুয়া বাহিনী ছাড়া আমরা কখনো দেখিনি যে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেছেন। সে কারণে তাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বলা সঠিক হবে কিনা সেটা মনে হয় বিতর্কযোগ্য’।

এস ময় আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়াও খুনীদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান করেছেন আর এরশাদ খুনীদের রাজনৈতিক দল গঠন করার সুযোগ দিয়েছেন। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় অবশেষে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। দীর্ঘদিন এ দেশের মানুষ কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে পারেনি। কারণ, এই দেশে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডেরই বিচার হয়নি। কিন্তু এখন এই দেশের মানুষ যেকোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে পারবে এবং বিশ্বাস রাখতে পারবে একদিন তারা বিচার পাবেই’।

এ ছাড়া তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার, চার নেতা হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ গণহত্যার বিচারের ব্যবস্থা করেছেন এবং অর্থনৈতিকভাবেও বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। এখন তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রা ধরে রাখা। এ জন্য তরুণদের বঙ্গবন্ধুর চেতনা ধারণ করতে হবে, ইতিহাস জানতে হবে। আর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো বন্ধ হয়নি, তাই আপনাদের শিক্ষিত হতে হবে, জনগণের পাশে থাকতে হবে জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে’।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সাদিকুল আরেফিন বলেন, ‘শোকের মাস আগস্ট মাসকে আমরা অনেক সময় অভিযুক্ত আগস্ট বলে থাকি। কারণ ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট এবং ২০০৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা একই সূত্রে গাঁথা। তাই যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তাদের সঙ্গে কখনো আপস করা যাবে না এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রয়েছি, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী তাদের সতর্ক থাকতে হবে একতাবদ্ধ থাকতে হবে’।

সভাপতির বক্তব্যে বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য ড. এ. কিউ. এম মাহবুব বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন সেটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। যদিও দুঃখজনক বিষয় হলো যারা এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী ছিল, তাদের আমরা এখনও বিচারের আওতায় আনতে পারিনি। তবে দীর্ঘদিন পর হলেও এসব কুশীলবদের খুঁজে বের করার যে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সেটি প্রশংসনীয় এবং আমরা আশা করি তাদেরও বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে’।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বশেমুরবিপ্রবির আইন বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এর পাশাপাশি জুম প্ল্যাটফর্মেও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংযুক্ত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রতিনিধি :: সিলেটের জৈন্তাপুরে ট্রাকচাপায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজন একই পরিবারের। আজ রোববার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সিলেট-তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুর ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পাঁচজন হলেন জৈন্তাপুরের নিজপাট রুপচেন গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী সাবিয়া বেগম (৪০), সাবিয়ার মেয়ে সাকিয়া বেগম (৪), তিন মাস বয়সী ছেলে তাহমিদ হোসেন, ননদ হাবিবুন নেছা (৩৮) ও একই গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক হোসেন আহমদ (৩৫)। এ ঘটনায় আহত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত সাবিয়ার দেবর জাকারিয়া আহমদ (৪২) ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩০)। পুলিশ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারসূত্র জানায়, যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মহাসড়কে উঠলে সিলেট থেকে তামাবিলগামী একটি ট্রাক সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার কয়েকজন যাত্রী ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন। এ সময় ঘটনাস্থলে চারজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়। আহত জাকারিয়া আহমদ বলেন, আজ সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর বলেন, মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশাটি থানায় নেওয়া হয়েছে।