• ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২০শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সিলেটে ৬ দফা দাবি না মানলে ৩ অক্টোবর থেকে সিএনজি চালকদের ধর্মঘটের ডাক

প্রিয় সিলেট ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১
সিলেটে ৬ দফা দাবি না মানলে ৩ অক্টোবর থেকে সিএনজি চালকদের ধর্মঘটের ডাক

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের হয়রানি অযথা মামলা দেয়াসহ ৬ দফা দাবি না মানলে আগামী ৩ অক্টোবর থেকে সিলেটে সিএনজি অটোরিকশা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং-৭০৭ এর সভাপতি এবং সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সিলেটে সিএনজি চালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের মামলা, জরিমানা ও রেকারিং হয়রানির প্রতিবাদে এবং ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি-২৭৮৫, সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন-৭০৭ এবং সিলেট জেলা অটোরিকশা, অটোটেম্পু, শ্রমিক জোট রেজি নং-২০৯৭ এর উদ্যোগে আয়োজিত মানবন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সরকার লকডাউন ঘোষণা করে। তারপর পরিবহণ বন্ধ হয়ে যায়। পরিবহণ বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা রোজগার না করতে পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে। সরকার লকডাউন শিথিল করায় পরিবহণ শ্রমিকরা আবারও কাজে ফিরে। কিন্তু সিলেটের ট্রাফিক বিভাগের অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা পরিবহন শ্রমিকদের অযথা হয়রানি করছে। রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হলেই মামলা ও জরিমানা প্রদান করে যাচ্ছে। প্রতিদিন গাড়ি চালিয়ে শ্রমিকরা এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা রোজগার করে। অথচ ট্রাফিক পুলিশ অযথা মামলা জরিমানা করে চালকদেরকে হয়রানি করছে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রী পরিবহণেও পাঁচ জনের জায়গায় তিনজন না নিলে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করছে। তাদের কারণে যাত্রীদেরও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগ পরিবহণ শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে ৬ দফা দাবি না মানলে পরিবহণ ধর্মঘট দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিআরটিএর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে চালকরা সঠিকভাবে লাইসেন্স পাচ্ছে না। আর সে সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ট্রাফিক বিভাগের কিছু পুলিশ কর্মকর্তারা। যদি বিআরটিও দুর্নীতি বন্ধ না করা হয় তাহলে আমরা বিআরটিএ অফিস ঘেরাও করতে বাধ্য হবো।মানববন্ধনে বক্তারা ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবি সমূহের মধ্যে হলো- সিএনজি চালিত অটোরিকশা বর্ধিত কর প্রত্যাহার করতে হবে, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধনসহ বিধিমালা প্রণয়নের পূর্ব পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক মামলা দেওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত জরিমানা বন্ধ করতে হবে, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিক্সা, অটোবাইক, টমটম, মোটরবাইক ও প্রাইভেট, কার/ লাইটেস দ্বারা যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে হবে।

এছাড়া সিলেট জেলায় ও মহানগরে সিএনজি অটোরিকশার জন্য পার্কিং স্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, সিলেট জেলা ও মেট্রো আরটিসিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণে ও ট্যাক্স, ফিটনেস, রুট পারমিট ইস্যু ও নবায়নে এবং মালিকানা বদলিসহ সকল কার্যক্রমে বিআরটিএ সিলেটের সকল প্রকার দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক রেকারিংসহ প্রতিযোগিতামূলক মামলা ও জরিমানা প্রদান বন্ধ করতে হবে।

সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি শাহ মো. দিলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও জেলা কমিটির সদস্য রাজা আহমদ রাজার পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি-২৭৮৫ এর কার্যকরী সভাপতি জামিল আহমদ, সহ-সভাপতি ইকবাল আহমদ চৌধুরী সাহাব, সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমদ, সহ সাধারণ সম্পাদক মো. বুলবুল আহমদ, অর্থ সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. বেলাল আহমদ, প্রচার সম্পাদক ইহসানুল হক সানুর, সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন-৭০৭ এর কার্যকরি কমিটির সভাপতি মো. সুন্দর আলী খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক কাওছার আহমদ, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রতিনিধি :: সিলেটের জৈন্তাপুরে ট্রাকচাপায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজন একই পরিবারের। আজ রোববার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সিলেট-তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুর ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পাঁচজন হলেন জৈন্তাপুরের নিজপাট রুপচেন গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী সাবিয়া বেগম (৪০), সাবিয়ার মেয়ে সাকিয়া বেগম (৪), তিন মাস বয়সী ছেলে তাহমিদ হোসেন, ননদ হাবিবুন নেছা (৩৮) ও একই গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক হোসেন আহমদ (৩৫)। এ ঘটনায় আহত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত সাবিয়ার দেবর জাকারিয়া আহমদ (৪২) ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩০)। পুলিশ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারসূত্র জানায়, যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মহাসড়কে উঠলে সিলেট থেকে তামাবিলগামী একটি ট্রাক সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার কয়েকজন যাত্রী ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন। এ সময় ঘটনাস্থলে চারজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়। আহত জাকারিয়া আহমদ বলেন, আজ সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর বলেন, মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশাটি থানায় নেওয়া হয়েছে।